এই প্রথম মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের দুঃখ কষ্ট নিয়ে নির্মিত হচ্ছে “প্রবাসের গল্প” নামে সিরিজ নাটক

0
12

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত প্রান মালয়েশিয়ার উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে ধারাবাহিক সিরিজ “প্রবাসীর গল্প”। বাংলা ভাষায় দেশের বাহিরে মালয়েশিয়ায় এমন কোন সিরিজ নাটক এই প্রথম নির্মিত হচ্ছে। দেশে থাকা পরিবার ও আত্নীয় স্বজনেরা যেন প্রবাসীদের প্রতি পজিটিভ ধারণা পায় এবং আর্থিক ও মানষিক চাপ দেয়া যে কত ভয়ংকর বিষয় সেই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত প্রান মালয়েশিয়া নেয় এই ভিন্ন উদ্যোগটি।

অভিবাসী কন্ঠ টিমের মালয়েশিয়া প্রতিনিধি তাসিন এই নাটক তৈরির পেছনের গল্পের মানুষ গুলোর সাথে কথা বলে জানান, প্রান মালয়েশিয়ার কান্ট্রি হেড জনাব সেলিম ভুঁইয়া সাহেব, প্রান মালয়েশিয়ার মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের হেড সালেহীন ও প্রান মালয়েশিয়ার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ইমরান সাহেবের নেতৃত্বে এই অসাধারণ উদ্যোগটি বাস্তবে রুপ নিতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর ফিরোজ প্রবাসীদের জীবন জড়ানো কাহিনী আর সুখ দুঃখ ভরা সংলাপ দিয়ে নির্মান করেছেন প্রবাসের গল্প নামে একটি ফিল্ম সিরিজ। এই সিরিজটির প্রতিটি সংলাপে প্রবাসীদের মানসিক মনোবল বৃদ্ধিতে উৎসাহমূলক ও শিক্ষনীয় শক্তিশালী বার্তা দেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের পরিবারগুলো যেন সবসময় প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সুখ দুঃখ ও বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকে সেই কথা তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজ নাটটির প্রতিটি ভিডিওতে।

প্রবাসীদের প্রতি যেন দেশের মানুষের ভালোবাসা আরও বেড়ে যায় এবং পরিবার গুলো যেন তাদের সমসাময়িক সমস্যা ও পরিস্থিতি অবলোকন করতে পারে সেজন্য এই ভিন্ন উদ্যোগটি নিয়ে সারাবিশ্বের স্বনামধন্য কোম্পানি প্রান রয়েছে এর মূল পৃষ্ঠপোষকতায়।

প্রান প্রেজেন্টস এই নাটকের নির্মান নিয়ে পরিচালক জাফর ফিরোজ প্রান মালয়েশিয়ার হেড অব মার্কেটিং জনাব সালেহিন এর প্রশংসা করে বলেন, তিনি আমাকে ফোন করে বলেন ইদানিং প্রবাসীদের হার্ট অ্যাটাকে অনেক মৃত্যুর খবর তাকে মানুষিক ভাবে পীড়া দিচ্ছে। সুতরাং এই বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন করে তোলা যাতে প্রবাসীদের উপর আর্থিক ও মানুষিক চাপ যেন কমে যায়।

সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু সচেতনতামূলক ভিডিও মাধ্যমে প্রবাসের গল্প সিরিজ নাটক তৈরির প্রস্তাব দেন। এরপর প্রান মালয়েশিয়া কোম্পানির কান্ট্রি হেড এবং প্রান মালয়েশিয়ার মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ইমরান সাহেবের নানা ধরনের কর্ম প্রচেষ্টার মাধ্যমে নাটকটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর জন্য তাদের প্রতি বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাতেই হয় এমন একটি উদ্যোগ নেয়ার জন্য।

নির্মাতা বলেন, ফিল্ম গুলো অনলাইনে দেয়ার পর অনেকেই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন গল্প গুলো তাদের জীবনের গল্প। একজন তো ফোন করে কেঁদেই ফেললেন। বললেন কোভিডের আগে তিনি প্রতিমাসে ভালো অঙ্কের টাকা দেশে বাবা মা ভাই বোনের জন্য পাঠাতেন।

কোভিডে তার পার্ট টাইমের কাজ গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আগের মত দেশে টাকা পাঠাতে পারছেননা। এর জন্য পরিবারের সবাই তাকে সন্দেহের চোখে দেখে। আগের মত পরিবারে তার গ্রহণ যোগ্যতাও নেই। ফিল্ম গুলো একটি সুন্দর নিরাপদ প্রবাস তৈরির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চায়। পরিবর্তন আসুক সুন্দরের সাথে দেশ এবং প্রবাসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here