মালয়েশিয়ায় কন্সট্রাকশন প্রজেক্টে নির্মান শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন ও নরকের মত অবস্থা।

0
1

মালয়েশিয়ায় নির্মান শ্রমিকেরা নরকের জীবন যাপন করছেন বলে মন্তব্য করেছিলেন বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার সংস্থা তেনাগানিতা।

গত কিছুদিন আগে মালয়েশিয়ার অভিবাসী কর্মীদের মানবাধিকার সংগঠন তেনাগানিতা মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসী কর্মীদের বাসস্থান ও অন্যান্য নূন্যতম প্রাপ্য অধিকার নিয়ে প্রেস রিলিজ দিয়েছিল। সেখানে মালয়েশিয়ায় কর্মরত কন্সট্রাকশন বা নির্মান শ্রমিকদের নায্য অধিকারের প্রতি খুব বেশি জোর দেয়া হয়েছিল। তেনাগানিতার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন নির্মানাধীন ভবনগুলোতে শ্রমিকদের বসবাসের পরিবেশ

 খুবই নগন্য, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর ও দুর্গন্ধযুক্ত। একটি কন্টেইনারের মধ্যে ২০-৩০ জনেরও বেশি শ্রমিককে থাকতে দেয়া হয় এবং নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত টয়লেটগুলোর ময়লা পানি গড়িয়ে গিয়ে পড়ে তার পাশেই পুকুর থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করা হয়। একটি কন্টেইনারে ২ টি তাক করা করা হয় অর্থাৎ উপর নিচ করে পাটাতন তৈরী করে গাদাগাদি করে থাকে শ্রমিকেরা যা মালয়েশিয়ার শ্রম অধিকার আইন লংঘন করে। এই ধরনের পরিস্থিতি

 নিয়োগকর্তা, ঠিকাদার বা তাদের মালিকদের বুঝতে হবে৷ বসবাসের জন্য একটি নূন্যতম পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে যেমন এগ্রিকালচার, কন্সট্রাকশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং সহ অন্যান্য সেক্টর গুলোর শ্রমিকদের আবাসন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় বেশিরভাগই মানবেতর জীবন যাপন করছেন, কারো কারো আবাসন ব্যবস্থা অন্যদের চেয়ে ভালো হলেও তাদের বসবাস স্থানের আরও ইম্প্রুভমেন্ট বা উন্নত করা উচিত।

১৪ ফেব্রুয়ারী মালয়েশিয়ার তামান ডেসার একটি নির্মানাধীন কনডোমিনিয়াম ধসে পড়ার ঘটনা দেশ জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। মূলত সেখানে ধসে পড়ার পর বিভিন্ন পক্ষের তদন্তে শ্রমিকদের নির্যাতন ও অমানবিক দুর্ব্যবহার ও আচরণের দৃশ্য সবার সামনে আসে।
শ্রম বিভাগের একটি তদন্ত কমিটি একটি সুত্র হতে পাওয়া তথ্য মতে সেখানে গিয়ে তদন্ত করে নিশ্চিত হয় যে সেখানে প্রকৃতপক্ষে শ্রম অধিকার আইন লংঘন করা হচ্ছে, শ্রমিকদের নূন্যতম বসবাসের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, লেও টাক চুই এন্ড সন্স এস’ডি’এন বিএইচডি নামের নির্মান প্রতিষ্ঠানটি তাদেত শ্রমিকদের নূন্যতম বেতন, ওভার টাইমের পেমেন্ট, স্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থা দিতে ব্যার্থ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রজেক্টে কাজ করতে দিয়েছিল।

 এই নির্মান প্রতিষ্ঠানটি সহ আরও আটটি সাব ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ তদন্তের জন্য খুজতে গেলে তাদের অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়৷ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে পারা যায়নি। তবে পুরো বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানায় শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here